jerseyspecialized জন্মসূত্রে ধার্মিক; বকধার্মিক ! – MUAZZEM
Home / ধর্ম চিন্তা / জন্মসূত্রে ধার্মিক; বকধার্মিক !

জন্মসূত্রে ধার্মিক; বকধার্মিক !

মোয়াজ্জেম হোসাইন সাকিল ঃ
একজন খ্রিষ্টান যে কারণে খ্রিষ্টান, আমিও ঠিক একই কারণেই মুসলমান। একজন হিন্দু যে কারণে হিন্দু, আমিও ঠিক একই কারণেই খ্রিষ্টান কিংবা বৌদ্ধ। সেটি জন্মসূত্রে।
আমার মা-বাবা মুসলিম বলে আমিও মুসলিম। খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ কিংবা হিন্দু মা-বাবার ঘরে জন্ম নিয়েছি বলে আমিও ওইসব ধর্মের অনুসারী।
আমি আমার বাবার সত‌্যতা যেমন জানতে চাই না, ঠিক ধর্মের সত‌্যতাও জানতে চাই না। পরিবারের সবাই একজন পুরুষকে আমার বাবা বলে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন, তাই আমি উনাকে বাবা হিসেবেই জানি এবং মানি। ডিএনএ টেস্ট করে দেখিনা।
ধর্মের বেলায়ও পরিবারের সবাই ইসলামকে সঠিক ধর্ম বলেছেন বলেই আমিও সেটি মেনে নিয়েছি। এটা কেবল অন্ধবিশ্বাসের মতোই। কোন ধর্মীয় গ্রন্থ নিয়ে গবেষণা করে কিংবা প্রচুর সাধনা করে আমি ধর্মবিশ্বাস আনিনি। খ্রিষ্টান, হিন্দু কিংবা বৌদ্ধ পরিবারে জন্মেছি বলেই আমিও জন্মসূত্রে ওই ধর্মের অনুসারী হয়েছি। তাই আমার কাছে ধর্মটা বড় কোন অর্জন কিংবা প্রাপ্তির মতো নয়। এর চেয়ে বরং একাডেমিক ডিগ্রিটা অনেক বড় আমার কাছে।
কাজেই আমি আমার চেয়ে একজন নাস্তিকের যোগ‌্যতাকে বড় করে দেখি। নাস্তিক অন্তত ধর্ম নিয়ে গবেষণা করছেন। হয়তো একদিন সঠিক কোন পথ পেয়ে যাবেন।
আজকে বাংলাদেশের প্রত‌্যেক ধর্মের সর্বোচ্চ জ্ঞানী গুণিজনরাও জন্মসূত্রেই মুসলিম, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ কিংবা হিন্দু ধর্মীয় গুরু হয়েছেন। খ্রিষ্টান ধর্মের সর্বোচ্চ গুরুজন যদি মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করতেন হয়তো তিনি মুসলমান ধর্মীয় গুরু হয়ে যেতেন। কি আজব ব‌্যাপার, তাই না? ঠিক আজ যিনি মুসলমান পণ্ডিত, তিনি জন্মসূত্রেই হিন্দু পণ্ডিত হয়ে যেতে পারতেন।
বাসায় গরুর মাংস রান্না করে বলেই আমি গরুর মাংস খেয়ে ধর্মের সুবিধা ভোগ করি। রসনা বিলাস করি। বাহাদুরি দেখাই। অপরদিকে বাসায় কেবল নিরামিষ ভোজন হয় বলেই আমি সেটিই মেনে নিই। কেবল বড়োরা বলেছেন বলেই বাসায় ফাতেয়া আর মোনাজাত না হওয়া পর্যন্ত খেতে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও না খেয়ে অপেক্ষা করি। গরুর গোস্ত আর হালোয়া রুটি ভক্ষণের ধর্মটা ভোগ করতে কতইনা আমি মজা পাই।
অপরদিকে বাসায় গরুর মাংস না খেতে বলেছে বলে খেতে পারিনা। আমাকে চিনেনা সেরকম জায়গায় সুযোগ বুঝে স্বাধটা নিয়ে নিই। আহারে এতো মজার গরুর মাংস বাসায় এবং ধর্মে নিষিদ্ধ! মেনে নেয়াই কষ্টকর। থাক, ধর্ম এবং পরিবার যেহেতু নিষেধ করেছে, প্রকাশ‌্যে খাবো না। খেতে ইচ্ছা করলে, বাইরে গিয়ে চুরি করে খাবো।
একইভাবে হালোয়া-রুটি আর গরুর মাংস প্রস্তুত হবার পর ফাতেয়া-মুনাজাতে দেরি হলে আমি সুযোগ পেলে চুরি করে খেয়ে ফেলি।
ধর্মে দেয়া বহুবিবাহের সুযোগটা যে কত্তোবড়ো সুযোগ, সেটা কি আপনি বুঝেন? আমি কিন্তু ঠিকই বুঝি। এই সুযোগটা নেবোনা কেনো? রাষ্ট্র প্রথম স্ত্রী’র অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারবে না বললেও আমি কিন্তু ঠিকই আরেকটা বিয়ের ফন্দি করে বেড়াচ্ছি। অন‌্য কোথাও গোপনে বিয়ে করে হয়তো দিব‌্যি সংসারও পেতেছি (আপনারা আপন মানুষ বলেই আমার গোপন কথাটি জানালাম, দয়া করে আমার স্ত্রীকে বলে দিয়েন না)। আমার ধর্ম আমাকে দ্বিতীয় বিয়ে কেনো? তৃতীয় কিংবা চতুর্থ বিয়েরও অনুমতি দিয়েছে। সুযোগটা বেশ লোভনীয় বৈকি! তবে…। ধর্ম যৌতুককে না বলেছে। রাষ্ট্রও বলেছে একই কথা। এই ক্ষেত্রে ধর্ম আর রাষ্ট্র এক হয়ে গেছে। রাজনীতিতে যেমন দুই দলীয় জোট থাকে, সেরকম। বহু বিয়ের ব‌্যাপারে ধর্মের সাথে রাষ্ট্রের বিরোধ থাকলেও যৌতুকের ব‌্যাপারে কোন বিরোধ নেই। যৌতুক বন্ধে ধর্ম আর রাষ্ট্র একাত্মতা প্রকাশ করেছে। ঐক্যজোট হয়েছে। বিয়ের বেলায় ধর্ম মানি, যৌতুকের বেলায় কিছুই মানতে চাইনা। না ধর্ম, না রাষ্ট্র। বরং যৌতুক না দিলে স্ত্রীকে নির্যাতন করি। কেবল আমি একা নই। আমার চৌদ্দগোষ্ঠী এক হয়ে যাই যৌতুক আদায়ে। সমাজের অন‌্য দশজন যৌতুক দিচ্ছেন, আপনারা দেবেননা কেন? আচ্ছা ছোটলোক। এখানে আমি সমাজের প্রচলনটাকেই মানতে চাই। ধর্মকে কোনভাবেই মানতে চাইনা। এরপরও ধর্মের কথা আসলে- পাঁচশত টাকার নোট নিয়ে হুজুরের কাছে ছুটে যাই। ফতোয়া নিয়ে আসি- হাদিয়া, উপহার এগুলো জায়েজ আছে। টাকা পেয়ে হুজুর আমার নিয়তটাও সহিহ করে দেন। আহা.. কি শান্তি। নিয়তটা সহিহ করতে পারাতে একটা মানষিক প্রশান্তি আছে। হা হা হা। কি মজা। মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার, এমনকি হেলিকপ্টার- সবই নিতে পারবো, উপহার কিংবা হাদিয়া হিসেবে। এসব কেনার জন‌্য লাখ লাখ টাকা নগদও নিতে পারবো। নিয়ত সহিহ করলে বরং সওয়াব হবে। হুজুর খুব ভালো করেই শিখিয়ে দিয়েছেন কৌশলটা। কেবল যৌতুক না ভেবে, উপহার কিংবা হাদিয়া ভাবতে হবে। আসলে ধর্ম কতইনা সুবিধার! শ’পাঁচেক টাকা খরচ করে হলেও আমি ধর্মের ভেতর থেকে এরকম একটা সুবিধা বের করে নিতে পেরেছি। অথচ এই পূজি দিয়ে আমি লাখ টাকার লাভবান হচ্ছি।
এরকম সুদকে ইসলামী সূদ, মদকে ইসলামী সরাপ, পতিতাবৃত্তিকে মূতা বিয়ে, নারীর উলঙ্গ শরীর প্রদর্শণীকে ঈদ ফ‌্যাশন; এধরণের নানান সুবিধা বের করে যদি আমি দুনিয়ার সব জারগোয়াই করতে পারি- কতইনা মজা!
ধর্ম থেকে এধরণের নানান সুবিধা বের করে নেয়া ছাড়া আমার আর কোন বাড়তি যোগ‌্যতা নেই। যে কারণে একজন হিন্দু প্রসাদ খান। ঠিক একই কারণে আমিও হালোয়া-রুটি খাই। কেবল জন্মসূত্র। এটা নিয়ে আমার নিজস্ব কোন দর্শন নেই, সাধনা নেই, বিশ্লেষণ নেই। অথচ আমি কেন প্রসাদ না খেয়ে হালোয়া-রুটি খাচ্ছি, তা আমার জানা দরকার। জানা দরকার- কেন আমি হালোয়া-রুটি না খেয়ে প্রসাদ খাচ্ছি সেটাও। কিংবা জানা দরকার আদৌ তা খাওয়া না খাওয়ার সাথে ধর্মের কোন সম্পর্ক আছে কিনা। বা ধর্মটা আসলেই কি। কোনটা সঠিক।
সবকিছুর আগে জানা দরকার নিজের সম্পর্কে। আমি কে? আমি কোথা থেকে এসেছি? কোথায় যাবো? কিভাবে এসেছি? কিভাবে যাবো? কেনো এসেছি? কেনো যাবো? আমার ভেতর কি আছে? আমার কতোটুকু শক্তি আছে? আমার করণীয় কি? কেবল নিজেকে নিয়েই যতো প্রশ্ন সবগুলোই জানা দরকার সবার আগে। মঙ্গল গ্রহ নিয়ে জানার চেয়েও নিজেকে জানা অনেক জরুরী। টেলিভিশনের স্ক্রল কিংবা প্রাইম সংবাদটি দেখার চেয়েও জরুরী। পত্রিকার লিড নিউজটি দেখার চেয়েও জরুরী। এমনকি আমার পরিধেয় পোশাক-পরিচ্ছদ সম্পর্কে জানার চেয়েও আমার নিজের সম্পর্কে জানাটা বেশি জরুরী।
যে কারণে একজন হিন্দু মূর্তি পূজা করেন, একই কারণে আমি মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়ি। যে কারণে একজন মুসলিম মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়েন, ঠিক একই কারণে আমি মন্দিরে গিয়ে পূর্জা করি। যে কারণে কেউ মূর্তি পূজা করলে, আমি তা ভাঙ্গার জন‌্য ধার্মিক হয়ে যাই। ঠিক একই কারণে কেউ মসজিদে আজান দিলে, আমি তা বন্ধ করে দিতে ধার্মিক হয়ে যাই।
আমি কেবল ধর্মকে ব‌্যবহার করে আরেকজনকে আটকাতে চাই। দমাতে চাই। নিয়ন্ত্রণ করতে চাই। কিন্তু ধর্মকে ব‌্যবহার করে নিজেকে আটকাতে চাই না কোনদিনও। নিজেকে দমাতে চাই না। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাই না। কেবল মূর্তি কিংবা আজান আটকাতে আমি ধর্মকে ব‌্যবহার করি। অন‌্যকে আটকাতে ধর্মকে ব‌্যবহার করি। নিজেকে আটকাতে ধর্মকে ব‌্যবহার করি না।
যখন মন্দিরে পূজোঁ দিতে যাই। মনটা ওখানে স্থির থাকে না। কতোদিকে দৌঁড়ায়! মন্দিরে পুজোঁ দেয়ার ভান করে মেয়েও দেখতে যাই। প্রেম করতে যাই। এই কাহিনী অবলম্বনে আমি আবার সিনেমাও বানাই। হা হা হা। মন্দিরে যে ধর্মীয় গুরুর পুজোঁ ভক্তি করতাম, সেই কিনা পুঁজো দিতে যাওয়া তরুণীকে ধর্ষণ করলো! আর তরুণীরই বা কেমন সাহস- এতোবড়ো একজন ধর্মীয় গুরুর পুরুষাঙ্গটা কেটে ফেললো। আহারে… গুরুর লিঙ্গটা একেবারে শরীর থেকে আলাদা হয়ে গেলো। এখন কি আলাদা এই লিঙ্গেরও “লিঙ্গ পুজা” করবো? কিছুই ভেবে পাইনা। মাথায় ধরেনা।
অপরদিকে মসজিদ, মাদ্রাসা এবং হেফজখানায়ও ধর্মীয় গুরুদের এমন কাণ্ড আমি দেখি। তবে এসব পবিত্র স্থানে মহিলাদের যাতায়াত নেই বললেই চলে। তাই এসব স্থানে পুরুষে পুরুষে চলটাই বেশি।
অন‌্যের কথা কি বলবো, নিজের কথাই বলি।
লজ্জা ! এতে কিসের লজ্জা? লজ্জা আপনি না পেলেই হলো। আমি সত্য কথাটা অকপটে স্বীকার করার সাহসটুকু রাখি। শুনেন- যখন আমি মসজিদে গিয়ে নামাজে দাঁড়াই, মনটা ছুটে যায় ব‌্যবসায়, অফিসে, কাজে, টাকায়, নারীতে, বোতলে, খেলার মাঠে, বাজারে, ধান্ধায়। আরো কতো জায়গায় যে মন ছুটে চলে আলোকগতির চেয়েও দ্রুতবেগে। নিজেকে আটকাতে চাই না। আটকাতে পারিও না। নিজেকে আটকানোর কৌশলটা জানাও নেই আমার। মাঝে মাঝে অজানা কোন নগরে ছুটে চলি আমি। ঘুরে বেড়াই আলোর বেগে। ইমাম সাহেব “আল্লাহু আকবর” বলে উঠলে আমি সম্বিত ফিরে পাই। ফিরে আসি মসজিদে দাঁড়ানো নিজের কাছে। ইমাম সাহেবকে ফলো করি। তখন প্রশ্ন জাগে- ইমাম সাহেবও কি আমার মতো কোথাও থেকে ঘুরে এসেছেন? তবে সেটা আমি জানিনা। আমার বিচরণটাই কেবল আমি পর্যবেক্ষণ করতে পারি। ইমাম সাহেবকে পর্যবেক্ষণ করার মতো দৃষ্টি আমার নেই।
মসজিদে গিয়ে নামাজের কাতারে শারিরিক আমি দাঁড়িয়ে থেকেও আসল আমি মসজিদ থেকে বেরিয়ে যাই। কাবা শরীফকে পেছনে রেখে সেলফি তুলতে আমি যতনা মনোযোগী, তারচেয়েও বেশি মনোযোগী ছবিটি ফেইসবুকে আপলোড করতে। নামের আগে “হাজি” শব্দটি লাগানোর মাধ‌্যমেই আমি হজ্বের চূড়ান্ত সুখ পাই। আর মানুষ যখন “হাজি সাহেব” বলে ডাকেন, তখন খুব ভালোই লাগে। একটা অহংকার চলে আসে। সামাজিক মর্যাদা বেড়ে যায়। প্রয়োজনে কোথাও কোন অনুদান দিয়ে “হাজি” যুক্ত করে নিজের নামটাকে ব্রান্ডিং করিয়ে নিই। আমি এটাকে হজ্বের প্রকৃত সুফল মনে করি। ব্রান্ডিংটা বেশ ভালোই হয়েছে। অনুদান পেয়ে এলাকার তরুণ প্রজন্ম এখন আমাকে হাজি সাহেব ছাড়া কিছুই বলেন না।অনেকেই এখন আমার আসল নামটাই ভুলে গেছেন। নতুন কারও সাথে পরিচয় হলেও আর নাম বলতে হয়না। হাজি সাহেবটাই চালিয়ে দিচ্ছেন সবাই। এই হাজি সাহেব নামটি আমি চাইলে রাজনৈতিক কিংবা ব্যবসায়িকভাবেও ব্যবহার করতে পারি। নামটার একটা ধর্মীয় গার্ম্ভিয্য যেমন আছে, ঠিক ব্রান্ডিংও ভালো হয়েছে। হাজি মোটরস, হাজি বিরিয়ানী, হাজি চটপটি, হাজি বিড়ি তথা হাজি গ্রুপ অব কোম্পানী করে ফেলতে পারি। একটা হজ্ব থেকে এতোটা মুনাফা পাবো ভাবতেই পারিনি। হা হা হা। হজ্ব নিয়ে একটু বেশিই বলে ফেলেছি। সরি।
কুরবানিতে সবচেয়ে বড় গরু আর ফ্রিজটি কেনার প্রতিযোগিতায় জিতে আমি ধর্মের চরম সুখটা ভোগ করি। যাকাত দেয়ার সময় কয়েকজন পদদলিত হয়ে মারা না যাওয়া পর্যন্ত আমার প্রচারণার সর্বোচ্চ অর্জন মনে করিনা। এবার বলেন, আমি কি ধার্মিক?
আসলে আমি ধার্মিক নই। বকধার্মিক। ধার্মিক হলে নিজেকে আটকাতাম সবার আগে। নিজেকে জানতাম সবার আগে।
আমি কেবল মাত্র মাসে মাসে হাজার কিংবা লাখ টাকা কামাই করার জন‌্যই পুরোটা জীবন পড়াশুনা করি, ডিগ্রি নিই। এর চেয়ে বেশি কিছু আশা করলে ঘুষ নিই, সূদে জড়াই, দূর্নীতি করি, ইয়াবার সদাই করি, আমার মা-বোন-কন‌্যাকে সরবরাহ করি, খুন করি, অপরাধ করি, ভালো মানুষের মুখোশ পরি। আরো কতো কি যে করি তার কোন আত্তা-পাত্তা নেই। অথচ এসবের কোন কিছুতেই আমার নিজের মঙ্গল হয় না (মঙ্গল শব্দটি কেবল হিন্দুদের দিয়ে দিয়েন না কিন্তু)। কোন কাজে আসে না। এসব অযথাই করি।
নিজেকে জানার জন‌্য কোনদিনও পড়াশুনা করতে চাই না। অথচ নিজেকে জানাটা খুবই জরুরী। নিজের স্মার্টফোনটা সম্পর্কে যতোটুকু না আমি জানতে চাই, ততোটুকু নিজের কান জোড়া সম্পর্কেও জানতে চাই না। স্মার্টফোনের ক‌্যামরাটা সম্পর্কে যতোটুকু না জানতে চাই, ততোটুকু নিজের চোখ জোড়া সম্পর্কেও জানতে চাই না। ফোনের অপারেটিং সিস্টেমটা কোন ভার্সনের, Android 6.0 Marshmallow কিনা। পরের ভার্সনগুলোতে আপডেট করা যাবে কিনা। খুব গুরুত্ব দিয়েই সব জেনে নিই। কিন্তু একটিবারের জন্যও নিজের অপারেটিং সিস্টেমটা সম্পর্কে জানতে চাই না। ভবিষ্যতে আপডেট করাতো দূরের কথা; বর্তমান ভার্সনটা কতো তাও জানতে চাই না। মোবাইল ফোন অপারেটরদের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে যতটুকু না জানতে চাই, ততটুকু নিজের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে জানতে চাই না। স্মার্টফোনটা হয়তো টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে; তাই ওটা সম্পর্কে জানার এতোটা আগ্রহ। আমাকে নিজেকে তো আর কিনতে হচ্ছে না! আসলেই কি তাই?
আমি বাইরের জিনিসগুলো ভোগ করতে চাই বলেই হয়তো বাইরের জিনিসগুলো সম্পর্কে জানতে চাই। নিজের কাছে নিজেও সবচেয়ে বড় উপভোগ‌্য জিনিস সেটা বুঝতে পারিনা। তবে নিজের শারিরিক কিংবা মানষিক কোন সমস‌্যা হলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হই। অথচ নিজেকে নিজের কাছে শরণাপন্ন করিনা কোনদিনও। এমনকি আমি নিজে যে ডাক্তারের কাছে শরণাপন্ন হই, সেই ডাক্তারও নিজেকে তাঁর নিজের কাছে শরণাপন্ন করেননা। ডাক্তার মশাইকে নিয়ে নচিকেতা ভালোই বলেছেন। হা হা হা।
বাইরের জগৎটা নিয়ে আমি এতোটাই ব‌্যস্ত; নিজেকে ভুলে গেছি। মাঝে মাঝে অন‌্যকে দমাতে ধর্মকে ব‌্যবহার করি। নিজেকে দমাতে কোনদিনও ধর্মকে ব‌্যবহার করিনা।
সব বাদ দিয়ে দেবো। এবার আমি নিজেকে জানবো সবকিছুর আগেই। ধর্ম দিয়ে নিজেকে দমাবো, নিজেকে আটকাবো, নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করবো- সবকিছুর আগেই।
কিন্তু…
মসজিদের প্রথম কাতারে, ইমাম সাহেবের ঠিক পেছনে, জুব্বা-টুপি-পাগড়ি পরে, নামাজের নিয়ত করার পর পরই মনটা যে ফেইসবুকের এই পোস্টটির দিকেই প্রথমে একটা ভোঁ দৌঁড় দেবে- নিয়ন্ত্রণহীন সেই আমিকে নিয়ন্ত্রণ করবো কেমনে? বলেন, কেমনে করবো? জ্বি, এই এক প্রশ্নেই কিন্তু সবকিছু! এটি নিছক কোটি টাকার প্রশ্নের মতো কোন প্রশ্ন নয়। বলতে পারি- জীবনের সমান দামি প্রশ্ন।
হায়রে জন্মসূত্রে ধার্মিক ! হায়রে বকধার্মিক !!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *