jerseyspecialized ষোল আনাই মিছে আমার! – MUAZZEM
Home / আত্মকথন / ষোল আনাই মিছে আমার!

ষোল আনাই মিছে আমার!

মোয়াজ্জেম হোসাইন সাকিল ঃ
মানুষই একমাত্র প্রাণী, যারা মাত্র দুইটি পা দিয়ে এতো সুন্দর করে হাঁটতে পারেন। দিনের পর দিন চেষ্টার পর মানুষ এই হাঁটার দক্ষতা অর্জন করেছেন। যাদের পা আছে; কম-বেশি সবাই হাঁটতে পারেন। অথচ সব মানুষ সাঁতার জানেন না। উড়তে জানেন না। তারা সাঁতার কিংবা উড়ার জন‌্য একদিনও চেষ্টা করে দেখেননি। হতাশ! অথচ একটু চেষ্টা করলেই হয়তো শিখে নিতে পারতেন। হাঁটতে শেখার জন‌্য যতদিন দরকার; সাতাঁর আর উড়তে শেখার জন‌্যও ততদিন দরকার হবে বললে হয়তো মানুষ এর নামও ধরতেন না।
আমি নিজেও উড়তে জানিনা। কিন্তু হাঁটতে জানি আর সাঁতার জানি। তবে উড়ার ধারণা আছে। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৫ হাজার ফিট উপরে মেঘেরও উপর দিয়ে চলাচলের সময় বিমানবালারা অসংখ‌্যবার উড়ার প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। মোটামুটি উড়ার আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। কিন্তু বাস্তব প্রশিক্ষণ, চর্চা এবং মহড়া খুবই জরুরী। আর এই সুযোগ না হলে ষোল আনাই মিছে আমার।
আমি সুইমিংপুলে সাঁতারের ছবি পোষ্ট করার পর অনেকেই বলছেন, আপনারা সাঁতার জানেন না। আপনাদের জন‌্য চমৎকার সুযোগ আছে।
দেখেন আমরা কতো সুন্দর করেই দুই পায়ে হাঁটতে জানি। আর হাঁটা শিখেছি কত মাস/বছর চেষ্টা করে? কম সময় না কিন্তু। কত শত বার পড়ে গিয়েছিলাম হাঁটতে গিয়ে! এই হিসেব আমাদের হয়তো কারো কাছেই নেই। এতো পরিশ্রমের বিনিময়েই আজ আমরা হাঁটতে পারি। হেলিয়ে দুলিয়ে হাঁটি। ফ‌্যাশন শোতে হাঁটি। মহড়ায় সমবেত পায়ে কসরত করি। ভয়ানক সুন্দর! তাই না? আমরা এক পায়েও দাঁড়াতে পারি। লাফ দিতে পারি। ফুটবল খেলতে পারি, দৌঁড়াতে পারি, ক্রিকেটে রান নিতে পারি। আরো কতো কিছু যে করি এই দু’টি মাত্র পায়ের উপর ভর করে।
অথচ হাঁটার চেয়েও সাঁতার অনেক সহজ। হাঁটার সময় গ্রাভিটি আর মধ্যাকর্ষণের যতোটা চাপ থেকে, সাঁতারের সময় ততোটা থাকে না। আর সাঁতারের সময় কেবল দু’টি পা নয়; পুরোটা শরীরই প্রয়োগ করতে পারি। উড়াটা মনে হয় আরো সহজ হবে। কেবল মধ্যাকর্ষণ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বাতাসের উপর ভর করে উড়ে চলা। উড়ার সময় গ্রাভিটিকে পাত্তা না দিলেও চলবে। কেবল অবতরণের সময় গ্রাভিটির বিষয়টা মাথায় রাখতে হবে।
অথচ আমরা এই হাঁটা আর উড়ার জন্য জীবনের একটি দিনও ব্যয় করলাম না। নদীপথে জলযানে করে যেতে সাঁতার জানা খুবই জরুরী। আকাশপথে ডাহরবোটে (আকাশযানে) যেতে উড়তে জানা খুবই জরুরী।
সাঁতার আর উড়া শেখার জন্য কক্সবাজার হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে উত্তম স্থান। সাগরে খেলতে খেলতেই প্রথমে সাতাঁরটা শিখে ফেলা যায়। আর একটু লজিষ্টিক সাপোর্টের ব্যবস্থা করতে পারলেই সাগরের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা উঁচু পাহাড় থেকে উড়ে চলা যায় সৈকত কিংবা সাগরের উপর দিয়ে। কেবল বৈদ্যুতিক তারগুলোই একটু ঝামেলা করবে। সাতাঁর আর উড়া যেহেতু এখন একেকটা স্কীল, অবশ্যই আমাদের শিখতে হবে।
আমরা কেবল সার্কাসের হাতিকে উপমা দিই। নিজেদের নিয়ে যে কতো উপমা দেয়ার আছে ভাবতে চাই না।
আজকে আমার স্ট‌্যাটাসটা অনেকের কাছেই অন‌্যরকম মনে হতেও পারে। কিন্তু আমাদের সন্তানদের কাছে সাঁতার শেখা আর উড়তে শেখাটা সত‌্যিই একটি জীবনদক্ষতা হিসেবে দেখা দেবে। এবং ভবিষ‌্যত প্রজন্ম এটি খুব সহজেই রপ্ত করে আপডেট করে নেবেন। এই স্ট‌্যাটাসটা পড়ামাত্র হয়তো এখনই “ভিশন লাইফ জ‌্যাকেট” তৈরির পরিকল্পনা হাতে নিচ্ছেন RFL কোম্পানী। যে জ‌্যাকেটটি পরিহিত থাকলে সাঁতার এবং উড়া দু’টিই সহজ হয়ে যাবে। তখন কিন্তু আপনাদের বলতে হবে- এটা যে আমার স্বপ্ন ছিল। শেষের লাইনটি মজা করলাম, হা হা হা।
হাঁটতে শিখুন, সাতাঁর শিখুন, উড়তে শিখুন। হাঁসতেও শিখুন, শিখতে থাকুন, শিখতে থাকুন। আর শিখে শিখে আমাকেও শেখাবেন কিন্তু।

সুকুমার দা’র ষোল আনাই মিছে’র শেষ প‌্যারাটা পড়ি-
খানিক বাদে ঝড় উঠেছে, ঢেউ উঠেছে ফুলে,
বাবু দেখেন, নৌকাখানি ডুবলো বুঝি দুলে!
মাঝিরে কন, একি আপদ! ওরে ও ভাই মাঝি,
ডুবলো নাকি নৌকা এবার? মরব নাকি আজি?
মাঝি শুধায়, সাঁতার জানো?- মাথা নাড়েন বাবু,
মূর্খ মাঝি বলে, মশাই, এখন কেন কাবু?
বাঁচলে শেষে আমার কথা হিসেব করো পিছে,
তোমার দেখি জীবন খানা ষোল আনাই মিছে!

Check Also

বনসাই

মোয়াজ্জেম হোসাইন সাকিল ঃ ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট। পুরো পৃথিবীই স্বাভাবিক নিয়মে চলছে। জাপানের মানুষগুলো কেবল …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *